উনুন পূজা আখা পালনী

💢#উনুন_পূজা/ #আখা_পালনী
💢#বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। প্রতিমাস জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো পূজা পার্বণ লেগেই থাকে। ঠিক তেমনি ভাদ্র মাসের ঝুলন উৎসব , জন্মাষ্টমীর পর হয় উনুন পূজা বা আখা পালনী পুজো।

💢#গ্রামাঞ্চলে মাটির তৈরি উনুনকে চলতি কথায় " আখা" বলে। তাই এই পুজোকে আখা পুজো বা আখা পালনী বলা হয়ে থাকে। প্রতি ভাদ্র মাসের শুক্লা পঞ্চমী দিন আখা পূজা করা হয়। "মনসা ও অগ্নি" দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য আখা পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। 
💢#পুজোর দিন সকালে বাড়ির মা কাকিমারা আখার সব ছাই তুলে আখা ও আখার ভেতর গোবর জল দিয়ে নিকিয়ে নেন,  তারপর শেকড় সমেত আস্ত ধান গাছ ও কচু গাছ আখার ভেতরে রাখা হয়। গোবর জল শুকিয়ে যাবার পর আখার সামনে দিকে সিঁদুরের তিনটে করে ফোঁটা দেওয়া হয়। এবং আখার গায়ে আলপনা দেওয়া হয়। অন্যান্য অঞ্চলে মাটির মনসা তৈরি করে এক সাথে পূজা করা হয় বলে পড়েছি। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম অঞ্চলে মাটির মনসা মূর্তি বানিয়ে আখা পুজো হয় বলে কোথাও শুনিনি। যাইহোক আখা জ্বালানো বন্ধ তাই গরম রান্না করা বন্ধ। আগের দিনের রান্না করা খাবার খাওয়া রীতি ছিল এই পুজোয়। যদিও বর্তমান কালে গ্যাস হওয়ায় সেই গ্যাসের ওভেনে রান্না করে। যদিও এই উনুন বা আখা এখন অনেক বাড়িতেই নেই। এখন তো প্রত্যেকবাড়িতেই গ্যাস ব্যবস্থা। তবে গ্রামাঞ্চলে এই আখা প্রায় বাড়িতে আছে। মুড়ি ভাজা অথবা ধান সেদ্ধ করে চাল তৈরি করতে এই আখা ব্যবহার করতেই হয়। 
দিনে প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাসে অথবা স্টোভে রান্না করে খাবার খেলেও রাত্রে প্রত্যেক বাড়িতে চিড়া ,দুধ, কলা, দই, মিষ্টি মাখিয়ে খাওয়ার চল আছে।
💢#পরের দিন সকালে মা কাকিমারা দেখি ধানগাছ ও কচু গাছকে জলে বিসর্জন করে দেন। এরপর যথারীতি আখা গোবর জল দিয়ে নিকিয়ে আবার আগের মত আখা জ্বালাতে শুরু করেন।

💢#গ্রামাঞ্চলে এই আখা পুজো হয়ে থাকলেও শহরের মানুষ শহুরে আদব কায়দা শিখে গিয়ে পুরাতন আচার অনুষ্ঠান ভুলে গিয়েছেন।  এসব প্রথা অঞ্চল ভেদে লুপ্ত হতে চলেছে। নতুন প্রজন্ম হইতো গ্রাম কি শহর  ১০/১৫ বছর পর ভুলে যাবে। আর এইসব লোকাচার অনুষ্ঠিত হবে না।

✍️লেখক: আশুতোষ মিস্ত্রী

💢তথ্য ঋণ :
বিলুপ্তপ্রায় লৌকিক পার্বণ - কৌশিক বড়াল(জলসিড়ি শারদ সংখ্যা ১৪২৫)
(সংগৃহীত)

Post a Comment

0 Comments